হাঁপানি বা এ্যাজমা

রোগের পরিচিতি

হাঁপানী রোগ সম্পকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য:

হাঁপানী একটি দূরারোগ্য ব্যাধি। মহাত্মা হ্যানিম্যান এই রোগটিকে সাইকোটিক রোগ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। এন্টিসাইকোটিক ঔষধের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই রোগ চির আরোগ্য হয় ইনশাআল্লাহ।
হাঁপানী বা এ্যাজমা হলো এমন একটি শ্বাসতন্ত্রের রোগ যেখানে ফুসফুসের শ্বাসনালী অতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এতে নানা উদ্দীপক যেমন ধুলাবালি, ঠান্ডা, ফুলের রেনু, গন্ধ ইত্যাদির সংস্পর্শে শ্বাসনালীতে সংকোচন হয় এবং কফ তৈরী করে, ফলে রোগী শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কষ্ট অনুভব করে।
১। হাঁপানীর প্রধান উপসর্গ হলো শ্বাসকষ্ট, বিশেষ করে রাত্রে ও ভোরে।
২। বুকে চাপ অনুভব।
৩। ঘনঘন কাশি হয়।
৪। বুকে নানা ধরনের শব্দ হয়।
৫। পরিশ্রম করলে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।

প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে এই রোগটি পূর্ণ সুস্থ্য হয় না। শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে রোগটি মরণব্যাধি নয়, যেমন- ক্যান্সার মরণব্যাধি, হাঁপানী চিরসাথী রোগ।
সাধারণত হাঁপানীতে আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে রোগী কোল্ড এলার্জি, ডাস্ট এলার্জিতে আক্রান্ত হয়। নাকে পলিপাস হয়। সহজে ঠান্ডায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এই ভাবে জীবনের পথে এই রোগটি হাঁপানীতে রূপান্তরিত হয়ে যায়।
সারা পৃথিবীতেই এই রোগের প্রকোপ দেখা যায়। শীত প্রধান দেশে এই রোগের আক্রমণ বেশী দেখা যায়। বাংলাদেশে হাঁপানীর রোগীর সংখ্যা ৭% বলে জানা যায়। যথাসময়ে এই রোগটির সুচিকিৎসা না হলে বংশ পরস্পরায় এই রোগের আক্রমন চলতে থাকে।
বংশে হাঁপানী রোগ থাকলে এবং যে সমস্ত হাঁপানী রোগীগণ ধুমপান, তামাক জৰ্দ্দা সেবন করেন, মুখে গুল ব্যবহার করেন তাদের একসময়ে COPD হয়ে যায়। COPD অর্থ হলো (ক্রণিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারী ডিজিজ)। COPD বা দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ জনিত ফুসফুসের রোগ। এই রোগটি ধীরে ধীরে ফুসফুসের কার্যকরী ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে মূলত ধুমপান, দূষণ ও সচেতনতার অভাবের কারণে। COPD প্রধান উপসর্গ হলো শ্বাস নালীতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং কফ জমা হয়ে বাতাস চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। তাছাড়া আরেকটি উপসর্গ হলো এফাইসিমা হয়ে যায়, এর অর্থ হলো ফুসফুসের এয়ার প্যাক ধ্বংস হয়ে গিয়ে অক্সিজেন ও কার্বনডাই অক্সাইডের বিনিময় বাধাগ্রস্থ হয়। সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই দূরারোগ্য COPD রোগে ভুগছে। COPD তে আক্রান্ত রোগীগণ সাধারণত পূর্ণ সুস্থ হয় না। কষ্ট অনেকাংশে কমে যায় এবং চলা ফেরায় অনেক আরামবোধ করে থাকে।
হাঁপানী একটি আর্ন্তজাতিক সমস্যা। বিভিন্ন কারনে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে আক্রান্ত মানুষগণ এর সমাধান খুঁজছে। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে এর নিয়ন্ত্রণ আছে কিন্তু স্থায়ী আরোগ্য নেই। তবে অত্যন্ত বাস্তব সত্য কথা হলো এই যে, হ্যানিম্যানের আবিস্কৃত হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে যথাসময়ে এই রোগটির সুচিকিৎসা গ্রহণ করলে রোগী চির আরোগ্য লাভ করে ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমার ৩৯ বছরের চিকিৎসা জীবনে আমার হাতে অসংখ্য হাঁপানী রোগী চির আরোগ্য লাভ করেছে। এই বইটিতে শুধুমাত্র আরোগ্যপ্রাপ্ত ৫০০ রোগীর বিবরণ দিয়েছি।
রোগীর চিকিৎসার সময়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হয়। বুকের অবস্থা জানার জন্য বুকের এক্সরে এবং রক্তে হাঁপানী ও এলার্জির অবস্থা জানার জন্য Serum IgE ও TCE পরীক্ষা করতে হয়। IgE বেশী হলে রোগীর কষ্ট বেশী হয়। সব চিকিৎসা শাস্ত্রের দ্বারাই সমগ্র পৃথিবীর হাঁপানী রোগীগণ উপকৃত হচ্ছে সেটা সবাইকে স্বীকার করতে হবে। কিন্তু হোমিও চিকিৎসা যথাসময়ে গ্রহণ করলে হাঁপানী রোগীগণ চির আরোগ্য লাভ করবেন তা পৃথিবীর মানুষকে অবগত করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার পদ্ধতি :

হোমিওপ্যাথি একটি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি, যার মূলনীতি হলো “Like cures like” – অর্থাৎ, যে পদার্থ কোন সুস্থ ব্যক্তির দেহে কোনো লক্ষণ সৃষ্টি করে, তা-ই খুবই ক্ষুদ্রমাত্রায় (high dilution) ব্যবহার করলে অসুস্থ ব্যক্তির সেই লক্ষণ সারাতে সাহায্য করে।

আল-রাজী এ্যাজমা রিসার্চ এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার-এ চিকিৎসা প্রদান করা হয় নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে:

প্রচলিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা (Classical Homeopathy):
রোগীর সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক ইতিহাস বিচার করে একক ঔষধ প্রদান করা হয়।

৫০ সহস্রতমিক পদ্ধতি (Fifty Millesimal Potency):
এটি একটি উন্নত মাত্রার হোমিও চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে ধীরে ধীরে ঔষধের মাত্রা বৃদ্ধি করে রোগ সারানো হয়।

কমপ্লেক্স চিকিৎসা (Complex Homeopathy):
একাধিক ঔষধ মিশ্রিত করে রোগ নিরাময়ে দ্রুত কার্যকর ফল পেতে ব্যবহার করা হয়।

রোগ নির্ণয়ে হোলিস্টিক পদ্ধতি:
শুধু শারীরিক উপসর্গ নয়, রোগীর আবেগ, মানসিক চাপ, পারিবারিক ইতিহাস, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি সবকিছু বিবেচনা করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার উপকারিতা :

🔸 কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই:
সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করলে হোমিও ঔষধে কোনো সাইড ইফেক্ট হয় না।

🔸 দীর্ঘমেয়াদী নিরাময়:
হোমিওপ্যাথি শুধু উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখে না, বরং রোগের মূল কারণকে নির্মূল করতে সাহায্য করে।

🔸 ব্যক্তি ভিত্তিক চিকিৎসা:
প্রতিটি রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অনুযায়ী পৃথকভাবে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।

🔸 সবার জন্য নিরাপদ:
শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ও দুর্বল রোগীদের জন্যও নিরাপদ ও সহনীয়।

🔸 সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য:
অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় খরচ কম, এবং ঔষধ সহজে বহনযোগ্য।

🔸 প্রাকৃতিক ও সম্পূর্ণ বিকল্প পদ্ধতি:
কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়া সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি করা ঔষধ।

রোগীর অভিজ্ঞতা